
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশমুখ বাকলিয়া থানার নতুন ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ইয়াবাসহ আটক ইমতিয়াজ হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা হলেন বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন (বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় কর্মরত), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা।
জানা গেছে, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরের নতুনব্রিজ এলাকার একটি তল্লাশিচৌকিতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশ। ওই সময় পুলিশ কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ইয়াবাগুলো আত্মসাতের পাশাপাশি ইমতিয়াজকে।ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা পোস্টে ২২ ডিসেম্বর 'ইয়াবা পাচারে বিচারকের গানম্যান, ধরেও ছেড়ে দিল পুলিশ' শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম. আলাউদ্দিন মাহমুদের নজরে আসে প্রতিবেদনটি।
এরপর ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত নিউজটি সরাসরি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১২ জানুয়ারি এ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনারকে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি রেকর্ড এবং বিচারকের স্বপ্রণোদিত আদেশের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ।
আদেশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরের প্রবেশমুখ নতুন ব্রিজ এলাকায় বাকলিয়া থানার চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ১ লাখ ২০,০০০ পিস ইয়াবাসহ ইমতিয়াজ হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়। ইমতিয়াজ কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ পরিচয় প্রদর্শন করার পর বাকলিয়া থানার কর্মকর্তারা তাকে ছেড়ে দেন এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ না করে গায়েব করে ফেলেন।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এরূপ সন্দেহমূলক অনুমান হয় যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৬ ধারার বিধানমতে মাদকদ্রব্য অপরাধসমূহ আমলযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও উক্ত আইনের অধীন সংঘটিত আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগকে কোনো ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করার পরও বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের না করে পিআরবি এর ২৪৪ ধারা লঙ্ঘন এবং পুলিশ আইনের ২৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।