
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম রেলওয়ে নতুন স্টেশনের গণশৌচাগার ইজারা কার্যক্রমে দুর্নীতি, প্রতারণা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জড়িত হয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন ও উচ্চমান সহকারী মো. নজরুল ইসলাম। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত রেখে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এক ঠিকাদার।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন মেসার্স এম. আর. ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন গণশৌচাগারের ইজারা সম্পন্নের জন্য একটি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তিটি পরের দিন (১২ জানুয়ারি) প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরের ডেসপাস শাখায় গ্রহণ করা হয়।
কিন্তু অভিযোগকারী দাবি করেন, বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের আগেই দুটি জাতীয় দৈনিকে একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আরও প্রশ্ন উঠেছে—উক্ত পত্রিকাগুলোর বাংলা ও ইংরেজি অনলাইন সংস্করণের কোথাও সেই বিজ্ঞপ্তির কোনো চিহ্ন নেই।
মাহবুবুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, দুই কর্মকর্তা যোগসাজশে প্রতারণা, জাল জালিয়াতি ও বেআইনি পদ্ধতিতে ইজারা প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। তাঁর দাবি, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ‘পরিকল্পিতভাবে’ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই কার্যক্রম দেশের প্রচলিত আইন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০২৫ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধের মধ্যেও পড়ে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্তে দোষীদের শনাক্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ইজারা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে অনুরোধ জানান অভিযোগকারী।
এবিষয়ে জানতে রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেনকে একাধিকবার কল দিলে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি।