
চট্টগ্রামে প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ে ৩৩০ জনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য এই তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যে তালিকায় বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের নাম। একই তালিকায় চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামও রয়েছে। তবে ওই তালিকায় মারা যাওয়া এক কাউন্সিলরের নামও রয়েছে, বাদ যায়নি বিএনপি নেতার নামও। এনিয়ে চট্টগ্রামে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগর এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৩৩০ জনের চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, দুষ্কৃতিকারী হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শওকত আজম খাজার নাম রয়েছে তিন নম্বরে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরী গত বছরের নভেম্বরে মারা গেলেও তাঁর নাম বহিষ্কার তালিকায় আছে ২২৭ নম্বরে।
‘দুষ্কৃতিকারী’ হিসেবে তালিকাভুক্তদের মধ্যে আছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, যুবলীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম, আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান নাহিদ, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু, শৈবাল দাশ সুমন, গাজী শফিউল আজম, শাহেদ ইকবাল বাবু, শফিকুল ইসলাম, এসরারুল হক, মোহাম্মদ কাজী নুরুল আমিন, মোবারক আলী, মোরশেদ আলম, জহুরুল আলম জসিম, নিছার উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ ইসমাইল, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল, গিয়াস উদ্দিন, শহিদুল আলম, হারুনুর রশিদ, নুরুল আলম, চৌধুরী হাসান মাহামুদ হাসানি, মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ, নাজমুল হক ডিউক, মোহাম্মদ জাবেদ, আব্দুর সবুর লিটন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, মোহাম্মদ জুবায়ের, আতা উল্লাহ চৌধুরী, আব্দুস সালাম, বাবু জহুর লাল হাজারী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, পুলক কাস্তগীর, হাজী নুরুল হক, মোর্শেদ আলী, আব্দুল মন্নান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জিয়াউল হক সুমন, আবদুল বারেক, সালেহ আহমদ চৌধুরী, যুবলীগ নেতা দেবাশীষ পাল দেবু, ছাত্রলীগ নেতা নুরল আজিম রনি, জাকারিয়া দস্তগীরসহ অনেকে।
তালিকায় আরও রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী প্রকাশ সাজ্জাদ, সাজ্জাদ প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ, ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, বার্মা সাইফুল, রায়হান, বোরহান, মোবারক হোসেন ইমন, হাড্ডি জনি, চুক্কু, ডেনডাইয়া, গিট্টু মানিক, টারজেন, গলাকাটা রইন্যা, অস্ত্র মিলন, নলা কাসেম, বাইক বাবু, সুমন চন্দ্র দাশ, পিচ্চি জাহিদ, হাত কাটা ইদু, কালা জাহিদ, কট নাজিম, ডাকাত ইউসুফ, বুইশ্যা, কার মাসুদ, কানা কুদ্দুস, সোর্স আনোয়ার, লাল বাদশা, পিচ্ছি কাওসার, লাল সাগর, পিচ্চি সাবু, কালা নোমান, মাছ কাদের, কানা মাসুদ, ঢাকাইয়া সুমন, ব্লেড রুবেল, ডাইল জাহেদ, কসাই সোহেল, ডিবি ফয়সালসহ আরও অনেকে।