
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের নেতা পরিচয়ে মুমিনুল হক মামুনের বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্বস্তি বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অনুমোদনহীন দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে একটি এম. আর. মনজুর গ্রুপ এবং অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন মুমিনুল হক মামুন। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও একটি পক্ষ সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা (পূর্ব) মো. সাইদুর রহমানের কার্যালয়ে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এদিন কয়েকজন ব্যক্তি তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিজেদের রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের পরিচয় দেন।
এ সময় সাইদুর রহমান জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক এম. আর. মনজুর। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রেলওয়েতে উক্ত ফেডারেশনের অ্যাফিলিয়েটেড অন্য কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নেই।
তার এ বক্তব্যের পর মামুন নামের এক ব্যক্তি আপত্তি জানিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়ে উচ্চস্বরে কথা বলেন। তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত আচরণ করলে কার্যালয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের সাধারণ সম্পাদক এম. আর. মনজুর বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ নেই। কেউ সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ বা শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের কার্যকলাপ সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। প্রয়োজনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।