
স্বল্প বেতনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফার্মেসি বিভাগের কর্মচারী মিল্টন রুদ্ধের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে চাকরি বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ, নিয়োগে অনিয়ম ও বিভাগের অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিল্টন রুদ্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন ফতেপুর গ্রামের রুদ্র পল্লী এলাকার ফণীন্দ্র রুদ্রের ছেলে। একসময় ১ নম্বর রেলক্রসিং এলাকায় বনরাজ ফার্মেসিতে স্বল্প বেতনে চাকরি করতেন। ২০১২ সালে তৎকালীন উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফের সময় টাকার বিনিময়ে ফার্মেসি বিভাগে পিয়ন পদে নিয়োগ পান। এরপর থেকেই তিনি প্রভাবশালী একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চাকরি বাণিজ্যে সক্রিয় হন। টাকার বিনিময়ে বিভিন্নজনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বিভাগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে খাবারের অর্ডার দিয়ে কমিশন নেওয়া এবং ল্যাবের কেমিক্যাল ক্রয়ে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া তৎকালীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর পরিবারের প্রভাব ব্যবহার করে সাবেক উপাচার্য শিরিন আখতারের সময় নিজের আত্মীয়কে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম থেকে পাস করা এক শিক্ষকের নিয়োগেও তার যোগসাজশ রয়েছে। এছাড়া বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বর্তমানে মিল্টন রুদ্র ১ নম্বর রেলক্রসিং এলাকায় একটি ফার্মেসির মালিক। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২০ লাখ টাকায় ভিটেবাড়ি, পুকুর ও নাল জমিসহ সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। পাশাপাশি তিনতলা ফাউন্ডেশনের ওপর একতলা বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্রো-ভিসি বেনু কুমার দে দায়িত্বে থাকাকালে স্ট্যান্ডিং কমিটির মাধ্যমে মেয়াদ পূর্তির আগেই পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মিল্টন রুদ্রের বক্তব্য জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার অঢেল সম্পদের উৎস ও উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।