
শব্দদূষণ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষে বুধবার (২৯ এপ্রিল) পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’র আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, আমরা সাধারণত দৃশ্যমান জিনিসকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি, কিন্তু শব্দদূষণ যেহেতু অদৃশ্য, কাজেই এটাকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না, অথচ শব্দদূষণের যে প্রভাব কিংবা শব্দদূষণের যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তা মারাত্মক ক্ষতিকর।
প্রতিবছর এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৯৯৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ২০০৩ সালে এ দিবসটি পালনের প্রচলন হয়েছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৬৪ জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা সভা এবং শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম শব্দদূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, প্রত্যেকে নিজেরা যদি সচেতন হই তবেই শব্দদূষণ কমে আসবে। আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি বাঁচানোর জন্য সকলের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১৮টি সংগঠনের প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব সংগঠন যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শব্দদূষণের বিষয়ে সচেতনতাবোধ তৈরি করে তাহলে তা সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নুরুন নাহার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে, প্রকল্পের আওতায় শব্দসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ বিনির্মাণে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ এ ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতায়ন করার পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এ পর্যন্ত সতেরো হাজার মামলা এবং দুই কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, শব্দদূষণ মনুষ্যসৃষ্ট একটি দূষণ, যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। শব্দদূষণের কারণে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাজেই এই দূষণটি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণের সচেতনতার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেন হয়, এর ওপর বক্তারা বেশি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ স্কাউটস, বাংলাদেশ গার্লস গাইড, পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বেলা, গুলশান সোসাইটি, ধানমন্ডি সোসাইটি, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, পরিবেশ আন্দোলন (পবা), ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ, ট্রাফিকের সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ), গ্রিন ভয়েস, গ্রিন সেভার্স, ন্যাচার স্টাডি ক্লাবের প্রতিনিধিরা।
দিবস উপলক্ষে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটওভার ব্রিজে ব্যানার ও দৃশ্যমান স্থানে ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।