
অপরিশোধিত তেলের নতুন চালান পৌঁছানোর পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৮টা থেকে শোধনাগারটির মূল প্ল্যান্ট পুনরায় চালু করা হয় বলে জানিয়েছেন ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত।
তিনি বলেন, `সকাল ৮টায় প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।'
এর আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে আসা ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ বুধবার কুতুবদিয়া অ্যাংকরে পৌঁছায়। পরে লাইটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে তা পতেঙ্গায় অবস্থিত শোধনাগারে নেওয়া শুরু হয়।
ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। এতে মজুত সংকট দেখা দিলে গত ১২ এপ্রিল থেকে শোধনাগারের মূল ইউনিট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্যান্য ইউনিটও ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় কয়েকটি চালান বিলম্বিত হয়।
ইআরএলের দৈনিক প্রায় চার হাজার টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর বড় অংশই আমদানিনির্ভর।
এদিকে বিপিসির আরও একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘নর্ডিকস পলাক্স’ বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যেতে পারে