
চট্টগ্রামে ঋণখেলাপি মামলায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রাইম এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন একটি ডুপ্লেক্স বাড়িসহ ৫৭ শতক জমি ‘অ্যাটাচমেন্ট বিফোর জাজমেন্ট’ হিসেবে জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ১১ মে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত-৩ এর বিচারক সেঁজুতি জান্নাত এ আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি জানা যায়। মামলাটি দায়ের করে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে খেলাপি হওয়ায় প্রাইম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মইনুল আলম (সায়মন) ও তার পরিবারের মালিকানাধীন সম্পত্তির বিরুদ্ধে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় প্রায় ৩৭ শতক জমির ওপর নির্মিত একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং আশপাশের আরও ২০ শতক জমি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, জমিসহ সম্পত্তিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসার জন্য ওয়ান ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ঋণ নেয় প্রাইম এন্টারপ্রাইজ। শুরুতে কিছু কিস্তি পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিনেও ঋণ আদায় না হওয়ায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. মইনুল আলম সায়মনের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা দায়ের করে ব্যাংকটি।
মামলায় মইনুল আলম ছাড়াও তার স্ত্রী নুর এ তাসনিয়া, মা শামসুন নাহার বেগম এবং সহোদর রাশেদুল আলম মামুনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার সময় ব্যাংকের দাবি ছিল ৪৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তবে সুদ-আসলে বর্তমানে পাওনার পরিমাণ প্রায় ৭২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে বাড়ি ও জমিতে পাওনাদার ব্যাংকের সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মইনুল আলম ও তার সহোদর রাশেদুল আলম মামুনের কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট পাওনা প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইপিডিসি ফাইনান্স এর পাওনা ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি এর ২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বিডি ফাইনান্স লিমিডেট এর পাওনা ৭ কোটি টাকা।
এর আগে ২০২৩ সালের ৪ মে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের দায়ের করা প্রতারণা মামলায় রাশেদুল আলম মামুনকে গ্রেপ্তার করে বন্দর থানা পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রাশেদুল আলম মামুন ও তার ভাই মইনুল আলম সায়মন বাংলাদেশ ফাইন্যান্স থেকে ৫ কোটি টাকার হোম লোন নিয়ে ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট কেনেন। পরে ঋণের অর্থ পরিশোধ না করে ফ্ল্যাটটি গোপনে অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।