
নিজস্ব প্রতিবেদক-
রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবসায়ী সমাজকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গিকার জানিয়েছেন আমিরুল হক।
সোমবার (২৫ মে) চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–র প্রেসিডিয়াম নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদে নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দল হবে যার যার, চেম্বার হবে সবার।
নবনির্বাচিত চেম্বার সভাপতি বলেন, মর্যাদা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে চেম্বার পরিচালনা করতে চান তিনি। ব্যক্তিগত পরিচয় বা আত্মীয়তার প্রভাব নয়, বরং দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, “আমার একজন ফার্স্ট কাজিন এখানে আছেন, কিন্তু আমি কারও পরিচয় দেবো না। যতক্ষণ ডিগনিটির সঙ্গে চেয়ার পরিচালনা করতে পারবো, ততক্ষণ থাকবো। যেদিন মনে হবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছি, সেদিন চেয়ার ছেড়ে দেবো।”
তরুণ উদ্যোক্তা ও নারীদের সম্পৃক্ত করে একটি রিফর্ম কমিটি গঠনের কথাও জানান আমিরুল হক। একইসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগ। আইটি ছাড়া বাংলাদেশ এগোতে পারবে না। শুধু কাগজভিত্তিক কাজ করে লাভ হবে না।”
সমালোচনা বা পরামর্শ সরাসরি জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সবার কাছে থাকবে। যেকোনো সময় যোগাযোগ করতে পারবেন।”
চট্টগ্রামের শিল্পখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত সভাপতি। তিনি জানান, একসময় চট্টগ্রামে প্রায় ৬৫০টি গার্মেন্টস কারখানা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ২৫০টিতে নেমে এসেছে। এছাড়া পরিবেশগত নানা অজুহাতে শিপ ব্রেকিং শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ নেই জানিয়ে আমিরুল হক বলেন, “একজন ব্যবসায়ীর রাজনীতিতে যাওয়া উচিত নয়। এখানে আসার পর সবাই এক পরিচয়ের—আমরা ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধি।”
অনুষ্ঠানে চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন চৌধুরী বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এসময় নবনির্বাচিত পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।