
গত ৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন ফসফেট সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ১৮০ মিটার দীর্ঘ লাল-সবুজের পতাকাবাহী জাহাজটি।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটির চলাচলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান নেয়।
পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ঘোষণার মধ্যেও দুই দফায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা চালায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে আবারও অপেক্ষায় থাকতে হয় জাহাজটিকে।
বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আজহার দিন জাহাজেই ঈদের জামাত আদায় করেন নাবিকরা। এর আগেও ঈদুল ফিতর একইভাবে জাহাজে কাটাতে হয়েছিল তাদের। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে টানা কয়েক মাস সমুদ্রে অবস্থান করায় মানসিক চাপেও রয়েছেন অনেক নাবিক।
জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান কিশোর জানান, সকালে সবাই একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য দোয়া করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তারা।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানি মজুদ রয়েছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগও রাখা হচ্ছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক বলেন, “জাহাজে থাকা নাবিক ও প্রকৌশলীরা সবাই সুস্থ আছেন। তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ওপরও।