
নিজস্ব প্রতিবেদক-
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস দেখানো সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শেষ আস্তানাও নির্মূল করা হবে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে কার্যকরভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা নির্মূল করা হবে। যারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, তাদের আশ্রয়স্থল ও সহযোগীদেরও খুঁজে বের করা হবে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক অভিযানে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, সামরিক বাহিনী এবং হেলিকপ্টারসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে অংশ নিয়েছে। প্রায় চার হাজার সদস্যের যৌথবাহিনী এ অভিযানে কাজ করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রের সব বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে কাজ করবে। এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। সন্ত্রাসীরা যাদের আশ্রয়ে থাকুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, জঙ্গল সলিমপুর, আলীনগর ও আশপাশের এলাকার উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সরকারি স্থাপনা নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সম্ভাব্য নতুন কারাগার স্থাপনের স্থানও পরিদর্শন করা হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীকে উচ্ছেদ করা হবে না বলে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য প্রদান ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এর আগে সকালে জঙ্গল সলিমপুর, আলীনগর ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন এবং এলাকার উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আবু সুফিয়ান, সাইদ আল নোমান, শাহজাহান চৌধুরী, এনামুল হক এনাম, জসিম উদ্দিন,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।