
নিজস্ব প্রতিবেদক-
বাংলাদেশে সংঘটিত একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি দাবি করেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, তবে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে তিনি তা প্রকাশ করছেন না।
মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতা ধর্মতলায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ গভর্নমেন্ট চেঞ্জ হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথা ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার, সত্য ভাণ্ডার।”
যদিও তিনি সরাসরি কোনো ঘটনার নাম উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
মমতা দাবি করেন, বাংলাদেশের ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক বড় অপরাধীকে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় উল্লেখ করে তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি। তিনি বলেন, “এতদিন তো আমি বলিনি। আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলেই বলছি। এখনো নাম বলছি না, ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের মানুষ উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল এবং পরে এসটিএফ তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যক্তিগতভাবে তাকে ফোন করে ঘটনাটি প্রকাশ্যে না আনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
মমতার ভাষ্য, “আপনি আপনার বেঙ্গল পুলিশকে বলুন, এই ঘটনা যেন বাইরে না আসে। এটা দেশের ব্যাপার।”
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জানিয়েছিল, অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর প্রায় এক মাস পর অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তার দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।