
নিজস্ব প্রতিবেদক-
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ও পলাতক সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
তিনি জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ (এনসিবি আবুধাবি) ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদকে দেশটির পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইউএইর প্রচলিত আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের আওতায় একাধিক মামলা রয়েছে। কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ার বিরুদ্ধেও মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই বার্তাই আমরা জাতিকে দিতে চাই।”
তার বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এ ঘটনাকে স্বাগত জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ মে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন।