যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
রোববার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বক্তব্যের শুরুতে স্টারমার তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার সরকারের সময়ে অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল এবং বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকারের ক্ষেত্রেও এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কার আনা হয়েছে।
স্টারমার বলেন, দল বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে—আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এখনও সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কিনা। দলের কাছ থেকে সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি পেয়েছেন এবং তা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
স্টারমার জানান, পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি রাজা তৃতীয় চার্লসকে অবহিত করেছেন। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে সময়সূচি নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট পুনরায় অধিবেশনে বসার আগেই দল নতুন নেতা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত কিয়ার স্টারমার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দলীয় অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ, কয়েক দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং একাধিক এমপি ও মন্ত্রীর পদত্যাগের আহ্বানের পর শেষ পর্যন্ত তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা স্টারমার সরকার সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও জনসেবা খাতের বিভিন্ন সমস্যার কারণে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা