
আপডেট ডেস্ক-
বিশ্বকাপের মঞ্চে অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিল ইকুয়েডর। শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুধু জয়ই তুলে নেয়নি, নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিটও।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি ইতিহাস গড়েছে।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় জার্মানি। খেলার মাত্র ২ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ বাঁকানো শটে জালের দেখা পান তারকা ফরোয়ার্ড লিরয় সানে। দ্রুত গোল হজম করেও ভেঙে পড়েনি ইকুয়েডর। বরং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় ৯ মিনিটে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ইকুয়েডর। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন নিলসন আনহুলো। গোলটি ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরায় এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ইকুয়েডর।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে জার্মানদের চাপে ফেলে দেয় দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইকুয়েডর, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
মজার বিষয় হলো, ম্যাচের আগে ডর্টমুন্ড চিড়িয়াখানার ওরাংওটাং ‘ওয়াল্টার’ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে জার্মানির বিপক্ষে জয় পাবে ইকুয়েডর। এর আগে তার দুটি ভবিষ্যদ্বাণীও সঠিক হয়েছিল। এবারও মিলেছে তার অনুমান, যা ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই জয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল দেশটি।
অন্যদিকে হারলেও ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে জার্মানি। তিন ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ হয়েছে আইভরি কোস্ট, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে খেলতে যাচ্ছে জার্মানি। আগামী ২৯ জুন শেষ ৩২-এর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে অন্য গ্রুপগুলোর সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলের মধ্য থেকে।
এদিকে ইকুয়েডরের এই জয়ে নকআউটে ওঠার দৌড়ে থাকা স্কটল্যান্ডের সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গেছে। গ্রুপের তলানিতে থাকা নবাগত দলটি তিন ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও বিশ্বকাপ অভিষেকে একটি ম্যাচ ড্র করতে পারাকে ইতিবাচক অর্জন হিসেবেই দেখছে সমর্থকরা।