
নিজস্ব প্রতিবেদক-
সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনেও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের লিখিত পরীক্ষা।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১১৪টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণের পর সকাল ১০টায় শুরু হয় ৩০ মিনিটের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষা। এরপর ওএমআর শিট সংগ্রহ করে বিতরণ করা হয় ৭০ নম্বরের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র, যার সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। পুরো পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২৮৩টি কলেজের মোট ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২৩ হাজার ৯০৩ জন, মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ২৩৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩১ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ৭০ হাজার ৯৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া কক্সবাজারে ১২ হাজার ২৫৫ জন, খাগড়াছড়িতে ৭ হাজার ৩৫৩ জন, রাঙামাটিতে ৫ হাজার ৪৩৯ জন এবং বান্দরবানে ৩ হাজার ৬৬৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
মোট ১১৪টি পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৮টি, কক্সবাজারে ১৮টি, বান্দরবানে ৮টি এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১০টি করে কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরেই রয়েছে ২৬টি কেন্দ্র।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব প্রতিরোধ এবং পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি পরীক্ষা তদারকির জন্য শিক্ষাবোর্ড ২৩টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করেছে, যার মধ্যে ১৫টি সাধারণ এবং ৮টি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।