
শুক্রবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের প্রথম সেক্টর কমান্ডার এবং পরে ‘জেড ফোর্স’-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করা, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি বৃদ্ধি, প্রবাসী কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করেন তিনি।
অধ্যাপক জাহিদ হোসেন আরও বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জনগণের ভোটাধিকার, সংসদীয় গণতন্ত্র, নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানও স্মরণীয়।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। নির্বাচনের পর জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় নেতাদের প্রণোদনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নমুখী বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি সংলগ্ন এতিম ও দুস্থ শিশুদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রশিক্ষণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
এ সময় চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, প্রকৌশলী ও স্থপতি মাসুদুর রহমান খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।