
নিজস্ব প্রতিবেদক
শুধু স্থানীয় নয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা ভিড় করেন এই বাজারে। অনেকেই ইলেকট্রনিক্স কিনতে এসে একই সঙ্গে ক্রোকারিজ, খেলনা, প্রসাধনী ও গৃহস্থালি সামগ্রীও সংগ্রহ করেন। এ কারণেই বাজারটি ‘ওয়ান-স্টপ হোলসেল মার্কেট’ হিসেবে পরিচিত।
চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগের সুবিধায় রেয়াজুদ্দিন বাজারে চীনা পণ্যের বিস্তার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। গুয়াংজু, শেনজেনসহ চীনের বিভিন্ন উৎপাদনকেন্দ্র থেকে সরাসরি কিংবা আমদানিকারকদের মাধ্যমে নিয়মিত নতুন নতুন পণ্য আসছে এই বাজারে।
এখানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় মোবাইল অ্যাকসেসরিজ, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, ব্লুটুথ স্পিকার, স্মার্টওয়াচ, এলইডি লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা পণ্য। পাশাপাশি ক্রোকারিজ, কাচ ও সিরামিক পণ্য, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, প্লাস্টিক সামগ্রী, খেলনা, হোম ডেকোরেশন, পোশাক, প্রসাধনী, ব্যাগ, ঘড়ি, হার্ডওয়্যার ও শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় নানা যন্ত্রাংশেরও বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে।
রেয়াজুদ্দিন বাজার বণিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বাজার এলাকায় ১১০টিরও বেশি মার্কেট ও বাণিজ্যিক ভবনে প্রায় ১৫ হাজার দোকান রয়েছে। এখানে প্রায় ১৫ হাজার ব্যবসায়ী ও আট হাজার কর্মচারী কাজ করেন। ব্যবসায়ীদের ধারণা, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন কয়েকশ কোটি টাকার লেনদেন হয় এবং উৎসব মৌসুমে সেই পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
তামাকুন্ডি লাইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, রেয়াজুদ্দিন বাজার এখন শুধু চট্টগ্রামের নয়, সারা দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ ব্যবসায়ী এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় আমদানি করা পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছে যায়, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুবিধা।
তিনি আরও বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য, সহজলভ্যতা এবং বিশাল বাণিজ্যিক পরিসরের কারণে রেয়াজুদ্দিন বাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে দিন দিন আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।