
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। এরপর ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন।
গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৯ জন সাধারণ আসনের এবং ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
গত ৯ আগস্ট ক্ষমতাসীন বিএনপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। ফলে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে। সংসদ কক্ষে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা থাকবে। সংসদ সদস্যরা তাদের সুবিধামতো নিকটবর্তী যেকোনো একটি বাক্সে ব্যালট ফেলতে পারবেন।
ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যকে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে। এরপর সিইসি প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফিরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও থাকবে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে প্রতিবারই একক প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।
এবারও সংসদে আসনসংখ্যার হিসাবে বিএনপির প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান সংসদে বিএনপির ২৪৭টি আসন রয়েছে। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি এবং এনসিপির ৮টি আসন রয়েছে। খেলাফত মজলিসের রয়েছে তিনটি আসন। এ ছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সদস্য এবং আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন।
ফলে ২০ আগস্টের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও ফলাফল অনেকটাই সংখ্যার হিসাবেই নির্ধারিত হবে। তবে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদে সরাসরি ভোট হওয়ায় এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।