নিজস্ব প্রতিবেদক-
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে রক্ত দিয়ে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে গভীর সখ্য গড়ে তোলে একটি নারী চক্র। এরপর ‘ভাত খাওয়ার’ বায়না ধরে সুযোগ বুঝে মায়ের কোল খালি করে ৮ মাসের এক শিশুকে চুরি করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। তবে মাত্র ৫ ঘণ্টার অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার এবং তিন নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সন্তানকে ফিরে পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা ঝিনুক আক্তার বলেন, অভিযুক্ত হুমায়রা নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করেছিল। তার স্বামী বিদেশে থাকেন জানিয়ে সহায়তার আশ্বাস দেয় এবং স্বামীর চাকরির ব্যবস্থাও করে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু রক্ত দেওয়ার আড়ালে এমন প্রতারণা করবে, তা কল্পনাও করেননি তিনি।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৩ মে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হন ঝিনুক আক্তার ও তার খালা। হাসপাতালে থাকার সময় হুমায়রা নামের এক নারী তাদের সঙ্গে সুকৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলে। মঙ্গলবার ঝিনুকের খালাতো ভাইয়ের জন্য জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে স্বেচ্ছায় রক্ত দেয় হুমায়রা। পরে সে ভাত খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, সরল বিশ্বাসে খাবার আনতে যান শিশুটির মা। সেই সুযোগে ৮ মাসের শিশু মিম্পাকে নিয়ে পালিয়ে যায় হুমায়রা।
পরে চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় মাত্র ১০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্তানকে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাবলমুরিং থানাকে জানান মা।
অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান চালায় পুলিশ। রাত ১১টার দিকে নগরীর পাঠানটুলী এলাকা থেকে শিশু মিম্পাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় শিশু চোর চক্রের তিন সদস্য হুমায়রা, সাহারা ও শিল্পীকে।
বুধবার (২০ মে) সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেফতাররা পেশাদার শিশু চোর চক্রের সদস্য। তারা হাসপাতালে এসে অসহায় ও গ্রামীণ রোগীদের টার্গেট করে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে রক্ত দেওয়া বা বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে শিশু চুরি করে। নগরীতে এমন আরও কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নগরীর ডাবলমুরিং থানা-এ মামলা দায়ের করেছেন শিশুটির মা ঝিনুক আক্তার।