• ঢাকা |

ইসিতে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন দখলের পরিকল্পনা করছে বিএনপি :আখতার হোসেন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

নির্বাচন কমিশনে বিএনপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ‘দখলের পরিকল্পনা’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত লংমার্চের পথসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি সংস্থা, প্রত্যেকটা জায়গায় সরাসরি দলীয় রাজনীতি করা পদধারী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তার আগে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দলীয় লোককে বসানোর পেছনে কী উদ্দেশ্য? এতেই স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশে সামনের নির্বাচনগুলোতে দখলদারিত্ব করার নতুন প্ল্যান শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশে আর আওয়ামী স্টাইলের একতরফা, রাতের ভোটের কিংবা দখলদারিত্বের নির্বাচন আমরা হতে দেব না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে। অথচ নির্বাচন দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

ছয় দফা দাবিতে শুরু হওয়া লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এ কর্মসূচির পক্ষে ঐক্য তৈরি হয়েছে। ‘জনতার এই জোয়ার থামানো আর সম্ভব নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের প্রতি যে চক্রান্ত আপনারা চালিয়ে যাচ্ছেন, যে দুঃসাহস দেখাচ্ছেন, তা থেকে ফিরে আসুন। জনগণের ইচ্ছাকে স্বীকার করে গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায় অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন।’

আখতার হোসেন আরও বলেন, একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আরেকটি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি। শহীদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা হত্যা, গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকেই এখনো মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করে আওয়ামী লীগের ‘দোসরদের’ গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস খর্ব না হবে এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ তাদের সংগ্রাম চলবে।

লংমার্চে অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে আখতার হোসেন বলেন, ‘আপনাদের হয়ে আমরা কথা বলব। ঢাকা থেকে যারা এসেছি, আপনাদের কথা দিচ্ছি—সংসদে ও সংসদের বাইরে যেখানেই সুযোগ পাব, জনতার পক্ষে কথা বলব। বাংলাদেশে আমরা স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যাব।’