• ঢাকা |

চট্টগ্রামে মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টি, হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চল


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক-

মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর নিন্মাঞ্চলের সড়ক, দোকানপাট ও বসতবাড়ি। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বছরের পর বছর হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার পরও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা। 

সৃষ্ট বায়ুচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার পর বৃষ্টি শুরু হয়। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তলিয়ে যায় প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক। দোকানপাট, বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন ভুক্তভোগীরা।

এসময় সড়কে জমে থাকা পানিতে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা যায়। সড়কে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। 

দূর্ভোগে পড়া ক্ষুব্ধ নগরবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কাজ বছরের পর বছরও শেষ হচ্ছে না। সরকার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সময়ক্ষেপন ও গাফিলতির খেসারত প্রতিবছরই দিতে হচ্ছে নগরবাসিকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জলাবদ্ধতায় নগরীর হালিশহর, ইপিজেড, আগ্রাবাদ, রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, জঙ্গীশাহ’র মাজার, চকবাজার ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকা ও বেশ কিছু অলিগলির সড়কও পানির নিচে তলিয়ে যায়।

পানির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

প্রবর্তক মোড়ের আশপাশের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেব নিতে আসা রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবাগ্রহীতারা বেশী দুর্ভোগে পড়ে।

জানা যায়, প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালের কালভার্ট এলাকায় মাটি ফেলে সংস্কারকাজ চলছে। যন্ত্রপাতিও রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি চলাচল ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। পাশাপাশি বায়ুচাপের কারনে সমুদ্র বন্দরসমুহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।

জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র

ভারী বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে যাওয়ার পর জলাবদ্ধতা কবলিত এলকা পরিদর্শনে যায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি বলেন, আসন্ন বর্ষা সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এর অংশ হিসেবে নগরের বিভিন্ন খাল ও নালা পরিষ্কারে তদারকি করা হচ্ছে। 

পরিদর্শনকালে মেয়র আরো বলেন, নগরের নালা-নর্দমা ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়াই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার কারণে নালাগুলো বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জনগণ সচেতন না হলে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।

নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ এখনো চলমান রয়েছে। চলমান মেগা প্রকল্পের অংশিজন সিডিএ সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে কাজের বড় অংশ মে মাসের মধ্যে শেষ হবে। তখন নগরবাসি সুফল পাবে।