চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় যুবক মোহাম্মদ হাসান প্রকাশ রাজু হত্যাকাণ্ড এবং এক শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় মূল শ্যুটারসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও হামলায় ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিনুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সৈয়দুল করিম (২৭), সিএনজিচালক আব্দুল মান্নান (৩৭), ইউনুচ মিয়া (২৪), আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) এবং আজগর আলী (৩৯)। পুলিশের দাবি, সৈয়দুল করিমই এই হত্যাকাণ্ডের মূল শ্যুটার।
পুলিশ জানায়, গত ৭ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ শহীদ মিনার এলাকার বাঁশবাড়িয়া গলিতে দেলোয়ারের ভাড়া বাসার সামনে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা অতর্কিত গুলি চালায়। এতে রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান ওরফে রাজু (২৪) গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি আক্তার (১২) নামে এক শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর নিহত রাজুর মা সকিনা বেগম বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।
ডিসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “গত সোমবার রাতে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকত এলাকা থেকে সৈয়দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রাজুকে গুলি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।”
তিনি জানান, সৈয়দুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদ এলাকার একটি বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং ঘটনার সময় পরা পোশাক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে।
এরপর ধারাবাহিক অভিযানে সিএনজিচালক আব্দুল মান্নান, ইউনুচ মিয়া, আয়াতুল্লাহ আলী আদনান, আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ খোকন ও আজগর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার সৈয়দুল করিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রকাশ খোকনের বিরুদ্ধে চুরি, হত্যাচেষ্টা ও মারামারিসহ ছয়টি মামলা এবং আজগর আলীর বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা রয়েছে।
ডিসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আরও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুরো ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”