• ঢাকা |

চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক-

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) রাতে ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন।

তিনি জানান, উস্কানি দিয়ে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

এর আগে রোববার গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা নির্মাণাধীন একটি অস্থায়ী ক্যাম্পেও ভাঙচুর চালায়।

ঘটনাস্থলে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্মাণশ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাকে করে এক্সক্যাভেটর এনে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের সহযোগিতায় মোটরসাইকেলে আরও লোকজন ছিল। আলীনগর স্কুলের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে একযোগে হামলা শুরু হয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গুলিও ছোড়া হয়।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ভাঙা যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ডিচ কেটে রাখায় যৌথবাহিনীর যানবাহন এগোতে পারেনি। ফলে সদস্যদের হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে এবং সেই সুযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, রাত একটার পর হামলা শুরু হয়। সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের সড়কের কয়েকটি অংশ কেটে দেয় এবং আলীনগর এলাকায় নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সেখানে র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থান নিতে বাধা দেওয়া।

তিনি আরও জানান, পাল্টা প্রতিরোধে যৌথবাহিনী শটগান, চাইনিজ রাইফেল ও গ্যাস গান ব্যবহার করে। পুরো ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। কঠোর প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে পারেনি এবং বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি। তবে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ক্যাম্পের কিছু অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এসপি মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কোটি কোটি টাকার স্বার্থ জড়িত থাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণ করা গেলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

জানা গেছে, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রবেশ করতে হয়। ছিন্নমূল ও আলীনগর—এই দুই অংশে বিভক্ত এলাকাটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়। তৎকালীন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও বর্তমান র‍্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টারসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ, সিএমপি, র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএন ও অন্যান্য বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেন।

এর আগে চারবার অভিযান চালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলেও পঞ্চম দফার অভিযানে যৌথবাহিনী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। পরে সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ও র‍্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের দাবি, ২০০৩ সাল থেকে একটি চক্র সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে সেখানে অবৈধভাবে জমি দখল, কাগজ তৈরি ও হস্তান্তরের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।