• ঢাকা |

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৭ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু এখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত হয়নি— এমন শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসা’। এই ভিসার মাধ্যমে আবেদনকারীরা জার্মানিতে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা, ভাষা কোর্স কিংবা অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর এই ভিসা পরিবর্তন করে শিক্ষার্থী রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়।

স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসা কী?

এটি এমন শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী হলেও এখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হননি। এ ভিসার মাধ্যমে আবেদনকারী সরাসরি জার্মানিতে গিয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসার জন্য সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হয়—

  • পূরণকৃত জাতীয় ভিসা আবেদন ফরম
  • দুই কপি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও মার্কশিট
  • ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ (জার্মান বা ইংরেজি)
  • স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ
  • আবাসনের তথ্য
  • ভিসা ফি (প্রায় ৭৫ ইউরো) জমার রসিদ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রচেষ্টার প্রমাণ

আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি জার্মানিতে ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এজন্য নিম্নোক্ত যেকোনো নথি গ্রহণযোগ্য হতে পারে—

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন গ্রহণের কনফার্মেশন
  • আবেদন জমা দেওয়ার প্রমাণ
  • আসন সংরক্ষণ বা রিজার্ভেশনপত্র
  • ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজন— এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি
  • জার্মান ভাষা বা প্রস্তুতিমূলক কোর্সে ভর্তির প্রমাণ (সপ্তাহে অন্তত ১৮ ঘণ্টার কোর্স)

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবেদনকারীকে দেখাতে হবে যে তিনি সরকারি সহায়তা ছাড়াই জার্মানিতে নিজের খরচ বহন করতে পারবেন।

গ্রহণযোগ্য আর্থিক নথির মধ্যে রয়েছে—

  • গত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • ব্লকড অ্যাকাউন্টের প্রমাণ
  • স্কলারশিপের সনদ
  • জার্মান স্পনসরের দায়িত্ব গ্রহণপত্র
  • অভিভাবকের আয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য
  • চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ছুটির অনুমতিপত্র

জার্মানিতে পৌঁছানোর পর করণীয়

জার্মানিতে পৌঁছানোর পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিকানা নিবন্ধন করতে হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, আর্থিক সক্ষমতা ও ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যও নিয়মিত যাচাই করা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লকড অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ভিসা আবেদন করার আগে এসব নথি যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি।