
চট্টগ্রমের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্বরা। বিকেল সড়ে ৪টার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারাবটতল এলাকার রশিদারপাড়া সড়কে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ জানায়, নিজ বাড়ির অদূরে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোহাম্মদ আলমগীর (৫০) ওরফে আলম একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। আলমগীর উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সে ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি ছিল।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, নিহত আলমগীর বাড়ির কাছাকাছি এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন আলমগীর। সেখান থেকে ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা আলমগীরের মোট সাইকেলও নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কবরস্থানসংলগ্ন সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
সরকার পতনের পর রাউজানে বিএনপির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একভাগে আছেন গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীরা এবং আরেকভাগে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীরা। দুই নেতাই সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আলমগীরকে খুনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে গোলাম আকবর খোন্দকার জানান, নিহত আলমগীর যুবদল নেতা আওয়ামী শাসনামলে দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি কারামুক্ত হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত খুনি ও খুনের নির্দেশদাতা যে বা যারা, তারা যত বড় গডফাদারই হোক না কেন, চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দবি জানান বিবৃতিতে।