নিজস্ব প্রতিবেদক-
দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও এখনো সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। টানা ছয় দিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকায় মাটির ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব এবং সাপের উপদ্রবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে অনেক পরিবার এখনো পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছে না।
এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সাপের উপদ্রব। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বন্যার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে অন্তত ৮৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় ২৮৫টি বিশেষ মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। এসব টিম চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে।
গতকাল বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েকদিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সড়ক, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।