• ঢাকা |

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জনের বেশি। হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিমানবন্দরের কার্যক্রম।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথমে সৌদি কর্তৃপক্ষ হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত না করলেও পরে এক সরকারি বিবৃতিতে ১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সাময়িকভাবে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে আহত ব্যক্তিদের পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের উদ্ধারে এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের হাসপাতালে নিতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়।
হামলায় আহত এক যাত্রী রয়টার্সকে জানান, বিস্ফোরণের আগে বিমানবন্দরের বাইরে আকাশে একটি বস্তু উড়ে যেতে দেখেছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দরের বহির্গমন ফটকের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এ সময় রিয়াদগামী কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয় অথবা অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে হামলার পর সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডা। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অন্য দেশগুলোর দূতাবাসও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা। এর আগে দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। আগের হামলাগুলোর একটিতে সৌদি আরবের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আগের হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছিল ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। তবে শনিবারের হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।