আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হামলার সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হরমুজ প্রণালীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট কেবলগুলোর দিকে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র উন্মোচনেরও হুমকি দিয়েছে বাহিনীটি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী তেহরানের ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়াম’-এর মিলনায়তনে এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালীর তলদেশ দিয়ে সাতটি বড় ইন্টারনেট কেবল গেছে। এসব কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। নতুন অস্ত্রও সামনে আনা হবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব ও শক্তি পুরোপুরি দূর করার অঙ্গীকারও করেছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
এর আগে চলতি অক্টোবরের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট কেবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে রেজায়ি বলেন, ‘আমরা এখনো এসব সম্পদকে আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনি।’ তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এ ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেয়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
পরবর্তী সময়ে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে কৌশলগত এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্যের কারণে সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থমকে যায়।