• ঢাকা |

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে কমিশনে দ্বন্দ্ব, অনিশ্চয়তায় ভোট


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১২ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক-

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগমসহ তিনজন বিএনপিপন্থী এবং অপর দুইজন জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনের সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ও এইচ এম আশরাফ উদ্দিন বুধবার (৭ মে) সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদনে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা রৌশন আরা বেগম, নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম ও মো. সেলিম উদ্দিনকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শুরু থেকেই অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও মাত্র তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ না করে পরদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে দুই নির্বাচন কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছিল না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকাশিত তালিকায় ব্যাকডেট ব্যবহার করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কয়েকজন প্রার্থীর নাম কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিও জানান তারা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মো. সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থেকে কেউ দলীয় অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিলে তা কমিশনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কমিশন শুরু থেকেই একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছে।

তার দাবি, কয়েকজন প্রার্থী আংশিক অর্থ পরিশোধ করে চেকের মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও বাকি অর্থ পরিশোধ না করায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে ফরম সংগ্রহ করলেও পরে নিজেরাই তালিকাভুক্ত এক প্রার্থীকে অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। অথচ ওই প্রার্থীর নাম তাদের জমা দেওয়া তালিকায় ছিল এবং তিনি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগপন্থী একটি সংগঠনের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা এখনো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অবস্থানে আছি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট চেক ও নথিপত্র জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল এবং নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চট্টগ্রাম ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম। তিনি অভিযোগ করেন, তিনজন নির্বাচন কমিশনার জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষে কাজ করছেন এবং আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব না মানায় কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, মনোনয়নপত্রের ফি নগদে পরিশোধ করা হলেও পরে চেক–সংক্রান্ত অজুহাত তোলা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন বর্জন ও নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে সমিতির সভাপতি ও জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেওয়াই সমিতির দায়িত্ব ছিল এবং সেটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন গ্রহণ ও বৈধতা যাচাই করেছে। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, সমিতি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলেও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে সভাপতির ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।