• ঢাকা |

রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা: সোহেল রানা ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৭ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত করা হয়।

এর আগে গত ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দ আলামত ও সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তিনি দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ সোহেল রানার স্বীকারোক্তি ও অনুতাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানান। পাশাপাশি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার সরাসরি প্রমাণ না থাকায় লাশ গোপনের চেষ্টার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

গত ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে দুই আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেন। মামলায় ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের বক্তব্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

গত ১ জুন আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।