একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদও পদত্যাগ করেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অঙ্গনে একদিনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে পরিবর্তন এলো।
ফেসবুক পোস্টে শেহরীন মোনামি লিখেছেন,
“আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।”
তিনি জানান, শিক্ষকতা জীবনের সাত বছরে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে দূরেই ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের আহ্বানে তিনি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নিজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার স্বপ্ন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। একজন তরুণ শিক্ষক হিসেবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার সুযোগকে তিনি “পরম সৌভাগ্য” হিসেবেও উল্লেখ করেন।
শেহরীন মোনামি তাঁর পুরো পোস্টজুড়ে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, গত দুই বছরে তিনি শিখেছেন কীভাবে একজন প্রক্টরকে “অতিমানবীয় ধৈর্য” নিয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হয়, কীভাবে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও হাসিমুখে শান্ত থাকতে হয় এবং কীভাবে আত্মসম্মান বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ের মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর টিম হয়নি। সেই সময়টিকে তিনি “অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
পোস্টের শেষাংশে নতুন প্রক্টর টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাঁদের সফলতা কামনা করেন। তবে তাঁর পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর Israfil Prang Ratan বলেন, শেহরীন মোনামি ফোনে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি কী কারণ দেখিয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে তাঁর এই পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদিও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।