আপডেট ডেস্ক-
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে হিউস্টনে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত গোলে জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। তবে সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ১০ মিনিটে লুকাস পাকেতার ফ্রি-কিক এবং ১৪ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি।
আক্রমণে পিছিয়ে থাকলেও ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় জাপান। মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে গিয়ে কাইশু সানো বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শটে আলিসনকে পরাস্ত করেন। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় জাপান।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে ৪৬ মিনিটেই লুকাস পাকেতার বদলে এনদ্রিককে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বদলির পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় সেলেসাওরা। ৫২ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের হেড এবং পরের মিনিটে গোললাইন থেকে জাপানের অবিশ্বাস্য ক্লিয়ারেন্সে গোলবঞ্চিত হয় ব্রাজিল।
অবশেষে ৫৬ মিনিটে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাসেমিরো দারুণ এক হেডে জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা আনেন। দুই মিনিট পরই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিশ্চিত গোলের সুযোগও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সুজুকি।
এরপর আক্রমণের ধার বাড়াতে মাতেউস কুনিয়ার বদলে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামায় ব্রাজিল। নির্ধারিত সময় শেষে রেফারি ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় ঘোষণা করলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি মনে হচ্ছিল।
কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্কটি লেখা ছিল মার্তিনেল্লির পায়ে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে কোনাকুনি শটে জাপানের জালে বল জড়িয়ে দেন আর্সেনাল তারকা। পোস্টে লেগে জালে ঢুকে পড়া সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
শেষ মুহূর্তে জাপানের মরিয়া আক্রমণ সফল হতে না দিলে রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিল শিবির। নাটকীয় এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল কার্লো আনচেলত্তির দল।