আপডেট ডেস্ক-
১৯৩৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েছে মিসর। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪–২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মোহামেদ সালাহর নেতৃত্বাধীন ফারাওরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মিসর। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ মিনিটে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। একটি ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস দেন মোহামেদ সালাহ। সেই বল থেকে ইমান আশুরের প্রথম শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরলেও, ফিরতি বলে দারুণ এক হেডে জাল খুঁজে নেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১–০ ব্যবধানে মিসরের এগিয়ে থাকার মধ্য দিয়ে।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ওমর মারমুশ। তবে একা গোলরক্ষককে পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। সেই সুযোগ হাতছাড়া করার মূল্য দিতে হয় ৫৫ মিনিটেই। অস্ট্রেলিয়ার একটি ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। ফলে ১–১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে যোগ করা সময়ে মিসরের নিশ্চিত গোলের সুযোগ দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। ফলে ৯০ মিনিটের খেলা ১–১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা না পেলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আসে টাইব্রেকার। টাইব্রেকারের আগে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্যাট্রিক বিচকে তুলে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে মাঠে নামান অস্ট্রেলিয়ার কোচ। তবে সেই সিদ্ধান্ত কাজে আসেনি।
টাইব্রেকারে দারুণ স্নায়ুচাপ সামলে চারটি শটের সবকটিই সফলভাবে জালে জড়ায় মিসর। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দুটি শট মিস করলে ৪–২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ফারাওদের। চতুর্থ শটেই ফল নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় পঞ্চম শটের আর প্রয়োজন পড়েনি।
এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল মিসর, আর নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল দেশটির ফুটবল ইতিহাসে।