• ঢাকা |

সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত অফিস, সরকারি মনোগ্রামযুক্ত কার্ড বিতরণের অভিযোগ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

সরকারি চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনা এবং সরকারি মনোগ্রাম ব্যবহার করে ভিজিটিং কার্ড বিতরণের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১-এর সার্কেল-১৬-এর অফিস সহকারী মো. আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

 

অভিযোগ রয়েছে, সীতাকুণ্ড ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের দোকানে গিয়ে তিনি ওই ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করছেন এবং আয়কর-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলছেন।

 

মো. আব্বাস উদ্দিন চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১-এর সার্কেল-১৬-এ অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তাঁর গ্রামের বাড়ি সীতাকুণ্ড এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় বাজার ও আশপাশের এলাকায় তাঁর নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে জানা গেছে। এর সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

 

অভিযোগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় তাঁর বিতরণ করা একটি ভিজিটিং কার্ড হাতে আসার পর। কার্ডে তাঁর নাম ও সরকারি পদবির পাশাপাশি সীতাকুণ্ডের মাদ্রাসা মার্কেটে ইসলামী ব্যাংকের অধীনে থাকা এসএন কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি ওই ঠিকানায় ব্যক্তিগতভাবে অফিস করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ধরনের ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি চাকরিতে থাকা একজন কর্মচারী নিজের সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে আয়কর-সংক্রান্ত কাজের জন্য করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

 

সীতাকুণ্ড বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আব্বাস উদ্দিন বিভিন্ন দোকানে গিয়ে নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে আসেন। কার্ডে থাকা নম্বরে আয়কর-সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ করার জন্য ব্যবসায়ীদের বলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, তাঁর দোকানেও আব্বাস উদ্দিন গিয়ে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে গেছেন এবং আয়কর-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজন হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন।

 

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন কর্মচারী যদি ব্যক্তিগতভাবে করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আয়কর রিটার্ন বা করসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত হন, তাহলে এতে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে কি না। একই সঙ্গে সরকারি মনোগ্রাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য ভিজিটিং কার্ড তৈরি ও বিতরণের বিষয়টিও তদন্তের দাবি উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

এদিকে একই সার্কেলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অন্য কোনো কর্মচারীও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁদের বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজস্ব সম্ভাবনাময় সার্কেলগুলোতে একই ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হলে কেউ কেউ স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেতে পারেন। এতে সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, করদাতাদের হয়রানি ও স্বার্থের সংঘাতের সুযোগ বন্ধ করা এবং রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্বাস উদ্দিন জানান, আমি কোথাও কাউকে কার্ড বিলি করিনি। এটি মিথ্যা কথা। আমার বাড়ি সেখানে হওয়ায় কেউ আমার নম্বর খুঁজলে ভিজিটিং কার্ড দিয়ে থাকি। এর বাইরে, আপনি যে বিষয়গুলো জানতে চাচ্ছেন, সেগুলোর সবই সত্য নয়।