ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল লিওনেল স্কালোনির দল। কিন্তু রক্ষণভাগের অসংগতি ও মাঝমাঠের ভুলের কারণে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষও বারবার ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে।
প্রথমার্ধে মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে এনজো ফার্নান্দেজের ভুলে দেরয় দুয়ার্তে সুযোগ পেয়ে সমতায় ফেরান কেপ ভার্দেকে। গোল হজমের পর আর্জেন্টিনার খেলায় ছন্দপতন দেখা যায়। স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল ছেড়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বাড়তে থাকে ভুলের সংখ্যা।
অতিরিক্ত সময়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দিলেও সেই ব্যবধানও স্থায়ী হয়নি। সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত গোলে ফের সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। ফলে ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও দুইবারই লিড হারায় স্কালোনির শিষ্যরা।
শেষ মুহূর্তে অবশ্য অধিনায়ক মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেডে জয়সূচক গোল আসে। সেই গোলেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে এনজো ফার্নান্দেজ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। রক্ষণে ভুলের পাশাপাশি আক্রমণেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। মাঝমাঠে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও ছিলেন নিষ্প্রভ। অন্যদিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুই গোল হজম করলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
ইতিবাচক দিক হিসেবে আবারও উজ্জ্বল ছিলেন লিওনেল মেসি। একটি গোল করার পাশাপাশি জয়সূচক গোলেও অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো রক্ষণে দৃঢ় উপস্থিতির পাশাপাশি জয়সূচক গোল করে নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজও একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
জয় পেলেও কেপ ভার্দের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্স নকআউট পর্বের আগে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সফল হতে হলে রক্ষণে ভুল, মাঝমাঠের সমন্বয়হীনতা এবং লিড ধরে রাখতে না পারার সমস্যাগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে স্কালোনির দলকে। অন্যথায় বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।