নিজস্ব প্রতিবেদক-
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের সংকট কাটিয়ে আগামী ৮ মে থেকে পুনরায় উৎপাদন শুরু করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ বুধবার (৬ মে) সকালে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে।
রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও শিপিং) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিনটি লাইটার জাহাজে তেল খালাস করা সম্ভব, প্রতিটিতে প্রায় ৪ হাজার টন করে। অন্তত ৮ হাজার টন তেল হাতে পেলেই শোধন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, জাহাজ পৌঁছানোর সময় কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, তবে পৌঁছানোর পরপরই খালাস কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে গত ১৪ এপ্রিল থেকে শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এর আগে সর্বশেষ তেলের চালান আসে ১৮ ফেব্রুয়ারি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল আমদানি ব্যাহত হয়। ফলে মার্চে নির্ধারিত কয়েকটি চালান বাতিল হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সংকটের সময় মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইন এবং ট্যাংকের তলানির সীমিত মজুত দিয়ে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। মজুত ‘ডেড স্টক’ পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
আরও আসছে তেল:
চলতি মাসেই আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় চালান আসার কথা রয়েছে। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘মারবান ক্রুড’ হিসেবে আমদানি করা হবে। ১০-১১ মে ফুজাইরাহ বন্দর থেকে রওনা দিয়ে জাহাজটি ২২-২৩ মে নাগাদ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বছরে ৬৫-৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এসব তেল প্রক্রিয়াজাত করে এলপিজি, ডিজেল, পেট্রোলসহ ১৬ ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হয়।
সংকটের আগে প্রতিদিন গড়ে ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন হলেও ঘাটতির কারণে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামানো হয়েছিল। এখন নতুন চালান আসায় আবার স্বাভাবিক উৎপাদনে ফেরার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।