• ঢাকা |

সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার একাধিক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিল্পসচিবসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে ১০ দশমিক ৮ পিপিএম হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় জাহাজের ভেতরে এই বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা আরও বেশি ছিল।

শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এ দুর্ঘটনার পেছনে কারও অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অবহেলা বা দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নিহত ৯ শ্রমিকের মধ্যে একজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আটজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সম্মতিতেই তাদের ময়নাতদন্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ভাঙার জন্য কোনো জাহাজ ইয়ার্ডে আনার আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ছাড়পত্র নেওয়া হয়।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শিপইয়ার্ডে বারবার দুর্ঘটনায় শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর শাস্তি না হওয়ায় মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দায়মুক্তির প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি এবং শিপইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের মালিকরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং শিপইয়ার্ড পরিচালনায় কোনো ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় ছিল কি না—তদন্তে এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।