• ঢাকা |

জলাবদ্ধতায় নাকাল চট্টগ্রাম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগে অচলাবস্থা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৮ জুলাই, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক-

চট্টগ্রামে টানা তিন দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে অস্বস্তিতে রয়েছে নগরের জনজীবন। জলাবদ্ধতার পানি না নামায় সড়ক, বাসাবাড়ি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল পানিতে তলিয়ে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রিয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে নগরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সড়ক ও রেল যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটেছে।

সকালে সরেজমিনে নগরের ঐতিহ্যবাহী রিয়াজউদ্দিন বাজারে দেখা যায়, বাজারের অধিকাংশ গলি ও দোকানের সামনে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। অনেক দোকানের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখছেন, কেউ পানি সেচছেন, আবার কেউ ভেজা পণ্য শুকানোর চেষ্টা করছেন। তবে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

শুধু রিয়াজউদ্দিন বাজার নয়, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ ও অক্সিজেনসহ নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় সড়ক, অলিগলি, ভবনের নিচতলা ও দোকানপাটে পানি উঠে গেছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক রান্নাবান্নাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই ঘরবন্দি অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন।

জলাবদ্ধতার পানি ঢুকেছে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও হাসপাতালের নিচতলাতেও। পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রমও বন্ধ রেখেছে।

নগরের বাইরেও দুর্যোগের প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে। হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া ও সীতাকুণ্ডসহ প্রায় সব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ষোলশহর স্টেশনে আটকে থাকা কক্সবাজারগামী একটি ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে। সন্দ্বীপের সঙ্গে নৌ-যোগাযোগও কার্যত বন্ধ রয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০০৭ সালে ৪০৮ মিলিমিটার এবং ১৯৮৩ সালে ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিও এখনও বিদ্যমান।

এদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার কোনো ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা ডাইভার্ট হয়নি। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র চালু রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মেয়রের নির্দেশনায় ১০১ সদস্যের কুইক রেসপন্স টিম জলাবদ্ধতা নিরসন ও জরুরি সেবায় মাঠে কাজ করছে।