• ঢাকা |

জমা না দেয়া অস্ত্র উদ্ধার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা যাচাই করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ মে, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক-
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র এখনো জমা না পড়ায় সেগুলো উদ্ধার ও বাজেয়াপ্তে কঠোর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাব মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে জমা নেওয়া অনেক অস্ত্র এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। দ্রুত এসব অস্ত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা নীতিবহির্ভূতভাবে ইস্যু করা অস্ত্র ফেরত না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনেক হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হলেও সব এখনো হয়নি। যাচাই-বাছাই করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে সেসব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী দাবি করেন, তার নিজের নামসহ খালেদা জিয়া-র নামেও অস্ত্র ও হত্যা মামলা ছিল এবং অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক মামলাও দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, এসব মামলা প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, পরে আইন মন্ত্রণালয়-এ পাঠানো হবে। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি যাচাই শেষে উপযুক্ত মনে করলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় বহু মানুষকে আসামি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামি শনাক্ত করা হবে এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হবে।

ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না এবং রেললাইনের পাশেও হাট বসানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বড় পশুর হাটগুলোতে জালিয়াতি ঠেকাতে পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং জাল নোট শনাক্তে বিশেষ যন্ত্র সরবরাহ করা হবে। ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল চালু করা হবে এবং সারা দেশের মহাসড়ক সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ফেরিঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে সাইনবোর্ড ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রসঙ্গে সীমান্তে পুশব্যাকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা কম বলেই তিনি মনে করেন।