চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী শাহ এমদাদীয়া। মানবসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচি গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি চরণদ্বীপ দায়রা শাখা প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম জেলা কার্যকরী সংসদের উদ্যোগে এবং আলহাজ্ব সৈয়দুল হক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে মোট ৩৩ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। আয়োজকদের জানানো হয়, সংগৃহীত রক্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত হবে। আসন্ন রমজান মাসে সম্ভাব্য রক্তসংকট মোকাবেলায় গত এক মাসে সংগঠনটির উদ্যোগে মোট ১৭৬ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম, মাইজভাণ্ডারী শাহ এমদাদীয়া ব্লাড ডোনার্স গ্রুপ এবং চরণদ্বীপ দায়রা শাখা।
মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন নায়েব সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খান এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সৈয়দুল হক খান। এছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট রক্তদান কেন্দ্রের ইনচার্জ ডা. মুহাম্মদ মিসবাহ উদ্দীন এবং সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলা কার্যকরী সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ শাকিল মাহমুদ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল করিম, বোয়ালখালী উপজেলার জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল কাদের জাবেদসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে মানবকল্যাণমূলক কাজকে ইবাদতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষের দুঃখ লাঘবের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি নিহিত। তিনি মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, একজন রক্তদাতার এক ব্যাগ রক্ত একজন অসুস্থ মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রমজান মাসে রক্তদানের হার কমে যাওয়ায় দেশে রক্তের ঘাটতি দেখা দেয়। এ ধরনের উদ্যোগ দুর্ঘটনাজনিত রোগী, প্রসূতি মা, থ্যালাসেমিয়াসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা ভবিষ্যতেও নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মানবসেবামূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।