• ঢাকা |

হাসপাতাল নির্মাণে ঘুরেফিরে কেন চট্টগ্রামের ফুসফুস চয়েস


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র সিআরবি যা শান্ত ও সবুজপ্রিয় নগরবাসীর কাছে “ফুসফুস" নামে বিখ্যাত। বিগত সময়ে ১৫মাসের টানা আন্দোলনে হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ হলেও সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল করার ফের খবর গুঞ্জন ওঠে। যার ফলে সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদীরা ফের আন্দোলনে নামার আওয়াজ তুলে। ইতিমধ্যে এই খবরে নতুন করে বইছে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়। 

নগরীর সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন, একবার প্রবল আন্দোলনের মুখে বন্ধ হওয়া এ প্রকল্প আবার শুরু করার পাঁয়তারা হচ্ছে কেন।
২০২১ সালের জুলাই মাসে এ প্রকল্পের জমি হাসপাতাল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়। টানা ১৫ মাস ধরে সেই আন্দোলন চলে। তারা মনে করেন নগরী ও নগরীর সংযুক্ত  উপজেলায় এত জায়গা থাকতে হাসপাতাল নির্মাণে নগরীর ফুসফুস কেন তাদের এত চয়েস (আগ্রহ) এই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 

হাসপাতাল নির্মাণ গুঞ্জনের খবরের মধ্যে নগর মেয়র ডাক্তার শাহাদাত হোসেন এক অনুষ্ঠানে  সিআরবিতে হাসপাতাল করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। চসিক মেয়র বলেন, নগরীর সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল বা নতুন কোনও স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। 

সূত্র বলছে, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এরপর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাথে সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তারপর ২০২১ সালের শুরুতে নির্ধারিত জমির সামনে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)। কার্যনির্বাহী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে ‘ইউনাইটেড চট্টগ্রাম হাসপাতাল লিমিটেড’।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১২ বছর। প্রকল্পের আওতায় ১০০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ, ৫০ আসনের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং দুই ধাপে মোট ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে। ৫০ বছর পর প্রকল্পের পুরো মালিকানা পাবে রেলওয়ের।
ওই চুক্তির পর প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং প্রিমিয়াম বাবদ রেলওয়েকে প্রায় আট কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ। 
তবে ২০২১ সালের জুলাই মাসে এ প্রকল্পের জমি হাসপাতাল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়। 

দেখা গেছে মেয়রের এই হাসপাতাল নির্মাণ বন্ধ 
ঘোষণা বক্তব্যের পর সিআরবি ‘রেলওয়ের প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্পের স্থান’ রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিদর্শনে আসার খবর সামনে আসে। এর পর গত দুইদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রাম এথলেটিক নামের সংগঠনের এক সদস্য আজিজুর রহমান রিজভী বলেন, এই সিআরবি  রানারদের কাছে এক অনন্য “রানিং প্যারাডাইস” হিসেবে জানেন। সেই এলাকায় হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প আবারো সামনে আসার খবরে নাগরিক সমাজ হিসেবে আমরা ক্ষুব্ধ। এই পরিস্থিতিতে রানিং কমিউনিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই জায়গাটি শুধু দৌড়ানোর ট্র্যাক নয়, বরং সুস্থতা, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং একটি প্রাণবন্ত লাইফস্টাইলের প্রতীক। প্রতিদিন অসংখ্য রানার এখানে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি গড়ে তোলেন। একটি সবুজ, উন্মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব এটাই আমাদের দৌড়ের প্রকৃত শক্তি।

এদিকে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সিআরবি এলাকায়  সকালে প্রতিবাদ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে রেলমন্ত্রী জানান সিআরবিতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা নিয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এখানে হাসপাতাল করা হবে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। আমাদের সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্দোলন যারা করছে সেটা তাদের ব্যাপার। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ট্র্যাক) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানির একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী মহোদয় আসছিলেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলছিলেন। তবে প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না।