নিজস্ব প্রতিবেদক-
মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিশাল সমুদ্র এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সামনে বিশাল সমুদ্র রয়েছে। এই সমুদ্র দেশের জনগণের সম্পদ। সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজ মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম। মীরসরাই থেকে শুরু করে সমগ্র অঞ্চল হেলিকপ্টারে দেখেছি। কেন দেখেছি? কারণ আমাদের সামনে বিশাল সমুদ্র, এটি বাংলাদেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক বাংলাদেশের জনগণ।’
তিনি বলেন, সমুদ্রকে কীভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি করা যায় এবং মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
চট্টগ্রামে চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চীনে গিয়ে দেশটির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। চট্টগ্রামে বড় একটি এলাকায় চীনের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রামের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
‘শান্তি-শৃঙ্খলা ছাড়া বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কোনো এলাকায় বাজারে গণ্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে বিনিয়োগকারীরাও চান তাঁদের উৎপাদিত পণ্য নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে, কাঁচামাল ঠিকভাবে আসবে এবং রাস্তাঘাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে মিল-কারখানা সঠিকভাবে চলবে না। আর মিল-কারখানা না চললে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সম্ভব নয়। তাই যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতের উন্নয়ন করতে হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে সুযোগ না পায়, সেদিকেও জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, এখন বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে, নাকি ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকা হবে। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই এখন মূল লক্ষ্য।
স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, দেশ গঠনের সময়। পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়ে কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
জনসভায় বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।