চট্টগ্রাম বন্দরের বৃহত্তম নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক থামেনি। বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনার পক্ষে-বিপক্ষে প্রকাশ্য আন্দোলন আপাতত স্তিমিত হলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এনসিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
শ্রমিক সংগঠনগুলো দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনার বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নিলেও টার্মিনাল পরিচালনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বর্তমানে নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) প্রায় এক বছর ধরে এনসিটি পরিচালনা করছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। গত মে মাসে এনসিটিতে এক লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা টার্মিনালটির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, বিদেশি অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বর্তমান অপারেটর সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে প্রায় ৪৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটি দীর্ঘদিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেক পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই থেকে সিডিডিএল টার্মিনালটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এছাড়া বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, দেশি বা বিদেশি— কে পরিচালনা করছে সেটি মুখ্য নয়, বরং টার্মিনালটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ড্রাইডক লিমিটেড ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে।
এদিকে বিদেশি অপারেটরের বিরোধিতাকারী শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট স্কপ প্রকাশ্যে কর্মসূচি না দিলেও অভ্যন্তরীণ বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
স্কপভুক্ত শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। তাই আন্দোলনের প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনও বলেন, বিদেশি অপারেটরের কাছে এনসিটি হস্তান্তরের চেষ্টা বন্ধ হয়নি বলে তাদের ধারণা। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত হলে তারা আন্দোলনে নামবেন।
অন্যদিকে বন্দর ব্যবহারকারীরা চান, কোনো ধরনের আন্দোলন বা বিতর্কের কারণে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়। তাদের মতে, এনসিটির কার্যক্রমে সামান্য বিঘ্নও দেশের বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।