• ঢাকা |

আল-আকসা ও জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আরব-মুসলিম বিশ্ব


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

আপডেট ডেস্ক-

জেরুজালেমের পরিচয় এবং ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় অভিন্ন কূটনৈতিক অবস্থান নিতে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে বৈঠক করেছেন আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং শহরটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জেরুজালেমবিষয়ক আরব মন্ত্রীপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা, আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত এবং তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।

বৈঠকে জেরুজালেমের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, আল-আকসা মসজিদসহ ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর অবস্থা এবং ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি বলেন, জেরুজালেম বর্তমানে অভূতপূর্ব হুমকির মুখে রয়েছে। তার অভিযোগ, পূর্ব জেরুজালেমে বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বিধিনিষেধ এবং শহরটিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ইসরায়েল শহরটির পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের পাশাপাশি ইসলামি ও খ্রিস্টান উপাসনালয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে এবং খ্রিস্টান ধর্মযাজকরাও নানা চাপের মুখে রয়েছেন।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জেরুজালেমের আরব, ইসলামি ও খ্রিস্টান পরিচয় পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে শহরটির পবিত্র স্থানগুলোর ওপর জর্ডানের হাশেমি তত্ত্বাবধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদেরও বিরোধিতা করেন।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। তিনি পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ অভিযোগ করেন, ইসরায়েল জেরুজালেমকে ‘ইহুদিকরণ’ এবং শহরটির আরব, ইসলামি ও খ্রিস্টান পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী নাফতি বলেন, জেরুজালেমের ঐতিহাসিক, আইনগত ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তনের সব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশের নিন্দা জানিয়ে বলেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের চরিত্র পরিবর্তনের যেকোনো পদক্ষেপ অবৈধ ও অকার্যকর। তিনি জেরুজালেম রক্ষা, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ এবং গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরব ও মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার আহ্বান জানান।

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনও জেরুজালেমে ইসরায়েলের পদক্ষেপ, আল-আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশ, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের নিন্দা জানিয়ে শহরটির ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা রক্ষায় জোরালো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো অভিন্নভাবে জানায়, জেরুজালেমে ইসরায়েলের চলমান পদক্ষেপ শহরটির ধর্মীয় পরিচয়, ঐতিহাসিক মর্যাদা এবং বিদ্যমান অবস্থানকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব অনুযায়ী জেরুজালেমের মর্যাদা রক্ষায় সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।