ঢাকা: জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এটিই প্রকৃত সত্য। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিরোধ, জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছয় দফার ভিত্তিতে এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় স্বাধীনতার বিষয়টি উচ্চারিত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে শেখ মুজিব তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলেও দাবি করেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সেই ঘোষণায় জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তিনি দাবি করেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। মুক্তিযুদ্ধে শুধু সশস্ত্র বাহিনী নয়, রিকশাচালক, দোকানদার, শিক্ষক, ছাত্র-যুবকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধকে ‘জনতার যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে স্পিকার বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়; বরং বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হকের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। এতে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) জামিলউদ দীন আহসান, মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার এবং নৌবাহিনীর কমডোর (অব.) জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি জাকির আবু জাফর। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাবেক সেনা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।