প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক খাতে যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও জাপান। জাপান সফরে থাকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বৈঠক শেষে স্টারমার বলেন, “ভবিষ্যতে আরও গভীর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য আমরা একটি পরিষ্কার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি। ইউরো–আটলান্টিক ও ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করতেও আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”
তাকাইচি জানান, চলতি বছর দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে ইন্দো–প্যাসিফিকের মুক্ত ও উন্মুক্ত কাঠামো, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইউক্রেন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হবে।
চার দিনের চীন সফর শেষে এক দিনের জন্য টোকিও পৌঁছান স্টারমার। এর আগে ফ্রান্স, কানাডা ও ফিনল্যান্ডের নেতারাও চীন সফর করেছেন। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা ও ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকিতে হতাশ হয়ে পশ্চিমা মিত্রদের চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। স্টারমারের চীন সফর নিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তা গুরুত্ব দেননি।
গত নভেম্বরে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে জড়াতে পারে। এরপর থেকেই টোকিও–বেইজিং সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনায় দুই নেতা সরবরাহশৃঙ্খলা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিষয়ে তাদের আগ্রহ বেশি, কারণ চীন এসব বিরল খনিজের প্রধান উৎপাদক। গত অক্টোবরে চীন এসব খনিজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি উৎপাদনে এসব খনিজ অপরিহার্য।