নিজস্ব প্রতিবেদক
শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বাড়তে থাকে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ। তবে বাড়ি ফেরার আনন্দের পাশাপাশি ট্রেনের টিকিটসংকট, সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে অনেকের মধ্যেই দেখা গেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। যাতায়াতের পথে নানা দুর্ভোগ থাকলেও প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আনন্দই তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে।
এক যাত্রী জানান, দীর্ঘ ছয় মাস পর পূজার ছুটিতে বাড়ি ফিরছেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় এবারের যাত্রা তার কাছে বিশেষ আনন্দের।
আরেক নারী যাত্রী জানান, পূজার ছুটিতে প্রথমে বাবার বাড়ি এবং পরে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পরিবারের সদস্যরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাই যাত্রাপথের কষ্ট থাকলেও বাড়ি ফেরার আনন্দ আলাদা।
তবে রেলযাত্রায় স্বস্তি নেই সবার। যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিটের সংকটের কারণে অনেককে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে অসুস্থ ব্যক্তি ও ছোট শিশুদের নিয়ে যাত্রা করা পরিবারগুলোকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে পাড়ি দেওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
ট্রেন ছাড়ার সময় নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রেন ছাড়ার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বার্তা দিয়ে যাত্রার সময় জানানো হচ্ছে। আগেভাগে নির্ভরযোগ্য সময়সূচি জানানো হলে যাত্রীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারতেন এবং স্টেশনে অপেক্ষার ভোগান্তিও কমত।
রেলপথের পাশাপাশি সড়কপথেও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। বাসযাত্রীদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। এক যাত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ৫০ টাকা বেশি নেওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া গেলেও সেই অজুহাতে ৭০০ টাকা ভাড়া আদায় করা যুক্তিসংগত নয়।
তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাস কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম দামে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে পূজার ছুটিতে রাজধানী ছাড়তে গিয়ে একদিকে যেমন পরিবারের কাছে ফেরার আনন্দে উচ্ছ্বসিত মানুষ, অন্যদিকে তেমনি যাতায়াতের নানা ভোগান্তি তাদের যাত্রাকে কিছুটা দুর্বিষহ করে তুলেছে। তারপরও ছুটি শেষে সুস্থভাবে আবার কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন—এমন প্রত্যাশা নিয়েই বাড়ির পথে পা বাড়াচ্ছেন ঘরমুখো নগরবাসী।