• ঢাকা |

২০২৭ সালজুড়েও থাকতে পারে ডিজেল সংকট, সতর্ক করল আইইএ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

আপডেট ডেস্ক

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহসংকট ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়েও অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র হতে পারে। এতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত আইইএর মাসিক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সময়ের আলো। জ্বালানিবাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার পরিমাণ ও সময় নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই এ সতর্কবার্তা এসেছে।

শিল্পকারখানা, কৃষি, পণ্য পরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানিটির দাম রেকর্ড উচ্চতায় ওঠায় বিভিন্ন দেশের সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের প্রকৃত আয় কমে আসছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে ডিজেলের মজুত কমিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ উদ্যোগ নেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আইইএর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ডিজেলের বাজারে সংকট আরও গভীর হয়েছে। বছরের এই সময়ে সাধারণত জ্বালানির মজুত বাড়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা কমছে। ফলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। তাদের মতে, বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যমান মজুতের সুরক্ষাব্যবস্থা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে ২০২৭ সালে সরবরাহে উদ্বৃত্ত তৈরি হওয়ার আগে আগামী কয়েক মাস বিশ্ববাজারে ডিজেল নিয়ে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব জ্বালানি খাতের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। পরিবহন ও কৃষি ব্যয় বাড়লে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। অন্যদিকে শিল্প উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পেলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।