• ঢাকা |

রমজানের শুরুতে এবারও দাম বেড়েছে কিছু কিছু নিত্যপণ্যের


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

বিশেষ সংবাদদাতা-

রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে সংকট না থাকলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কিছু পণ্যের দাম কমলেও বেড়েছে কিছু কিছু পণ্যের দাম এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের অস্বস্তি ও উদ্বেগ রয়েছে।

রমজানে বেশি চাহিদা থাকে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, এঙ্কর ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও খেজুরের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু রমজান মাসে সয়াবিন তেলের চাহিদা ৩ লাখ টন। এ ছাড়া চিনির চাহিদা ৩ লাখ টন, ছোলা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টন, মসুর ডাল ২ লাখ ৫ হাজার টন, পেঁয়াজ ৫ লাখ টন এবং খেজুরের চাহিদা ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি পণ্যেরই ২৫ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মজুত রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।    

গত বছরের তুলনায় ছোলার দাম কিছুটা কমলেও মসুর ডাল ও এঙ্কর ডালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছর রোজার একদিন আগে (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) ছোট দানার প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকা, যা আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর মোটা দানার মসুর ডালের দাম বছরের ব্যবধানে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে। গত বছর এঙ্কর ডাল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি দরে, যা এ বছর ১১০ থেকে ১২০ টাকা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দর ধর্মঘটের কারণে সময়মতো পণ্য খালাস না হওয়া ও নির্বাচনের ছুটিতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রমজানে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, দাম বাড়ার সুযোগ নেই।  

বেড়েছে আটা ময়দা ও সয়াবিনের দাম- 

গত বছর রমজানের আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা-ময়দা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, এ বছর যা ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম বছরের ব্যবধানে বেড়ে প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা থেকে ১৯৫ টাকা হয়েছে। 

এবার প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রসুন, ডিম,দাম কিছুটা নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।  

রমজানে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাপণ্যের দাম প্রতি বছর রোজার আগে বেগুন, লেবু ও কাঁচামরিচের দামে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের বেগুন, টমেটো, কাচাঁ মরিচ, পুঁদিনা, গাজরের দামও।   

ক্রেতারা জানায়,ভোটের ব্যস্ততায় বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। গাড়ি না আসর অজুহাতে আসে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। নির্বাচন শেষ হলেও এখনো কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। প্রতি বছর রোজার আগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করে এটা দু:খজনক সরকারকে মনিটরিং বাড়াতে হবে।

বেড়েছে মাংসের দামও-

ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত দুই সপ্তাহ আগেও ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সোনালী ও দেশী মুরগির দাম বেড়েছে একই হারে। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, যা গত বছর রোজার আগে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যেত। 

শুল্ক কমলেও কমেনি খেজুরের দাম 

রোজাকে সামনে রেখে খেজুরের দাম কমাতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। বাজারে ঘাটতিও নেই তবুও গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় এবার ৩০ টাকা থেকে ১০০টাকা পর্যন্ত বেশি দেখা যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের ভ্রাম্যমাণ আদালত রমজানে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য বাজার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির দায়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।